আশির দশকের প্য়ানপ্যানানি মেলোড্রামাটিক ছবি যেন। বিয়ের আসরে ছেলের মা কাঁদছেন, হবু বউমাও কাঁদছেন। কেননা, সদ্য জানা গিয়েছে, হবু বউমা আর কেউ নন, তাঁরই একদা হারিয়ে যাওয়া মেয়ে! ছবির লাস্ট সিনে সব্বার ‘মিল’ দেখতে পাওয়ার আমবাঙালির যে চিরবাসনা, সিনেমা যেন একেবারে অক্ষরে-অক্ষরে সেই চিত্রনাট্যই মেনে চলছে। যা দেখে একটু চিন্তাশীল দর্শক বিরক্ত হয়ে চেয়ার উল্টে হল থেকে বেরিয়ে আসেন।

নাহ্! এক্ষেত্রে তেমন কোনও সুযোগই নেই। কেননা কে না জানে, ট্রুথ ইজ স্ট্রেঞ্জার দ্যান ফিকশন! এমন ঘটনাই ঘটেছে চিনের জিয়াঙ্গসু প্রদেশে (China’s Jiangsu)।

ছেলের বিয়েতে গিয়ে মা আবিষ্কার করেন, তাঁর হবু পুত্রবধূ আসলে বহু বছর আগে হারিয়ে যাওয়া তাঁর নিজেরই মেয়ে! একটি জন্মদাগ (birthmark) দেখে নিজের মেয়েকে চিনে নেন তিনি। ওই দাগ দেখেই মহিলা তৎক্ষণাৎ মেয়েটির বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলেন। এবং জেনে হতবাক হন যে, ওই মেয়েকে ২০ বছর আগে দত্তক নিয়েছিলেন তাঁরা। যদিও হবু জামাইয়ের মায়ের মুখে এই প্রশ্ন শুনে হকচকিয়ে যান পাত্রীর বাবা-মা। কারণ দত্তক নেওয়ার ঘটনাটা তাঁরা সযত্নে গোপন রেখেছিলেন। কারও জানারই কথা নয়। কিন্তু পাত্রের মা এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করায় গোটা বিষয়টিই তাঁকে বলেন তাঁরা। জানান, বহু বছর আগে রাস্তার ধার থেকে এই মেয়েকে কুড়িয়ে পেয়েছিলেন তাঁরা। ব্যস! ছেলের মা একেবারে নিশ্চিত হয়ে গেলেন এই তাঁর সেই মেয়ে! হবু-বউমাও সব জেনে বিয়ের কী হবে তা না ভেবে এতদিন পরে নিজের মা-কে ফিরে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে কেঁদে ভাসালেন।

সব থেকে অদ্ভুত অবস্থায় পড়ে যান বর। নিজের বোনকে ফিরে পাওয়ার আনন্দে হাসবেন, না বিয়ে ভেঙে যাওয়ার দুঃখে বিমর্ষ হবেন, বুঝতে পারেন না! মায়ের আকুল আনন্দ তো তাঁকেও ছুঁয়ে যাচ্ছে!

শুধু তো তাঁরই নয়, উপস্থিত সকলেরই তখন মনে এক প্রশ্ন। সব কিছু জানাজানি হওয়ার পরে আর তো এ বিয়ে হতে পারে না। অতঃকিম?

না, আশ্চর্যের উপরে আশ্চর্য আছে। কোনও চিত্রনাট্যে এ জিনিস হতে পারে না। বিয়ের আসরে প্রায় বোমা ফাটিয়ে এরপর পাত্রের মা ঘোষণা করলেন, এ বিয়ে হবে!

সে কী! কী ভাবে?

তিনি জানালেন, মেয়েকে দিনের পর দিন পাগলের মতো খুঁজেছেন তিনি। পাননি। তখন একটি শিশুকে দত্তক নিয়েছিলেন। সেই ছেলেকে আজ সকলে তাঁরই ছেলে বলে জানেন! এবং তিনিই এই বিয়ের আসরে হবু বর। সেই হিসাবে যেহেতু এই দু’টি ছেলেমেয়ের মধ্যে কোনও রক্তের সম্পর্ক নেই, ফলত এঁদের বিয়েরও (Marriage) কোনও বাধা নেই!

সকলে যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন। পাত্রী তাঁর শাশুড়ির মধ্যেই মা-কে পেলেন। শাশুড়ি-কাম-মা পেলেন তাঁর নিজের মেয়েকে। দত্তকপুত্রের মনটা হয়তো এর মধ্যে একটু খিচখিচ করতে পারে, কেননা যাঁকে তিনি এতদিন গর্ভধারিণী বলে জানতেন, আজ জানলেন, সেই মহিলা তাঁর ‘মা’ বটে, তবে পালয়িত্রী মাতা। কিন্তু তাতে কী, তিনি প্রায় ভেঙে-যেতে-বসা বিয়ের আসরে তো তাঁর বউকে একরকম ফিরেই পেলেন তিনি। তাই-বা কম কী? একেবারে হ্যাপি এন্ডিং!

 

 

 

 

 

জি নিউজ

প্রতিবেদনটি জনস্বার্থে প্রকাশ করা হলো

image_pdfimage_print