Pic-02[মোঃ বেলাল হোসেন মিলন] বরগুনার তালতলী ও আমতলী উপজেলার ৪৪টি কমিউনিটি ক্লিনিকের ভবন দীর্ঘ দিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় এ গুলোর মধ্যে প্রায় ৩৫ টি ভবন এখন ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বর্ষার সময় এগুলোর ভবনের ছাদ চুয়ে পানি পড়ায় রোগীদের সঠিক ভাবে সেবা দিতে পারছে না সিএইচসিপিরা। ফলে ভেস্তে যেতে বসেছে সরকারের স্বাস্থ্য সেবা।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৯ সালে আওয়ামীলীগ সরকার স্বাস্থ্য সেবা মানুষের দোর গোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রতি ওয়ার্ডে ১টি করে (আমতলী ও তালতলী উপজেলায়) মোট ৪৪ টি কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করে। নির্মানের পর ২০০১ সালে বিএনপি জোট সরকার ক্ষমতায় এসে কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম সম্পূর্ন বন্ধ করে দেয়। ২০০১ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ৭ বছর ঐ ভবনে কোন কার্যক্রম পরিচালিত না হওয়ায় ভবনগুলো ধীরে ধীরে  নষ্ট হয়ে যেতে থাকে। ২০০৯ সালে আবার আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় এসে পুন:রায় কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করলে এ ভবনগুলো কোন রকম ধুয়ে মুছে পরিস্কার করে কার্যক্রম চালু করে। এর মধ্যে অনেক ভবনের পলেস্তারা খসে পড়েছে, ভবনের গায়ে ফাটল ধরেছে আবার অনেক ভবনের ছাদ চুষে পানি পড়ে। বর্ষা আসলে ভবনের ভিতরে বসে রোগী দেখা যায় না। পানিতে সারা ভবনের মেজ তলিয়ে যায়।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ভবন সংস্কারের অভাবে তালতলী উপজেলার লাউপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের বেহাল দশা। দরজা জানালাগুলো খুলে পড়ে গেছে। দেয়ালের গায়ে পলেস্তারার নেই। ছাদে ফাটল ধরায় বৃষ্টি আসলে অনবরত পানি পড়ে। বৃষ্টির পানিতে মেঝে তলিয়ে যায়। ফলে বাধ্য হয়ে ২ বছর ধরে সিএইচসিপি পার্শ্ববর্তী লাউপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বারান্দায় বসে রোগী দেখেন।

সিএইচসিপি আফরোজা আক্তার জানান, সংস্কারের অভাবে ক্লিনিকের ভবন ব্যবহার সম্পূর্ন অযোগ্য হয়ে পড়ায় বাধ্য হয়ে স্কুলের বারান্দায় বসে রোগী দেখতে হয়। এতে নানা বিরম্বনা পোহাতে হয়। একই অবস্থা জয়ালভাঙ্গা কমিউনিটি ক্লিনিকের। ভবনটির ছাদে ফাটল দেখা দেওয়ায় বর্ষার সময় পানিতে তলিয়ে যায়। নিরুপায় হয়ে বৃষ্টি আসলে মাথায় ছাতা ধরে রোগীদের সেবা দিতে হয়। সিএইচ সিপি সুজন প্যাদা জানান, প্রায় ৩ বছর ধরে কমিউনিটি ক্লিনিকের বেহাল দশা। বর্ষার সময় রোগী দেখতে গিয়ে ছাদ চুয়ে পানি পড়ায় ভিজে যাই। একই অবস্থা আমতলী উপজেলার বৈঠাকাটা কমিউনিটি ক্লিনিকের। ৩ বছর আগেই ভবন ব্যবহার অযোগ্য হওয়ায় সেটি এখন তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। ১ কিলোমিটার দুরে চাওড়া ইউনিয়ন পরিষদের বসে এখন রোগী দেখেন এই ক্লিনিকের সিএইচসিপি আল ইমরান হোসেন। এতে  বৈঠাকাটা গ্রামের রোগীদের ১ কিলোমিটার পথ হেটে অনেকেই ইউনিয়ন পরিষদে যেতে চান না। এভাবে আঠারগাছিয়া ইউনিয়নের গেড়াবুনিয়া, সোনাখালী, আরপাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের চরকগাছিয়া, ভায়লাবুনিয়া বড়বগী ইউনিয়নের কাজির খাল, ছোটবগী ইউনিয়নের সরদারিয়া, শারিকখালী, গুলিশাখালী ইউনিয়নের গোছখালী, কুকুয়া ইউনিয়নের চরখালীসহ আমতলী ও তালতলী উপজেলার ৪৪টি কমিউনিটি ক্লিনিকের মধ্যে প্রায় ৩৫টি কমিউনিট ক্লিনিকের ভবন দীর্ঘ দিন ধরে সংস্কার না করায় ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ভবনগুলো সংস্কারেরও কোন উদ্যোগ নেই কর্তৃপক্ষের।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: এমএ মতিন জানান, আমতলী ও তালতলী উপজেলায় ৪৪টি কমিউনিটি ক্লিনিকের ভবন রয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশ ভবন ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। যে সকল কমিউনিটি ক্লিনিকের ভবন সম্পূর্ন ধ্বংস হয়েছে সেগুলোর ভবন নতুন করে নির্মানের প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। বাকীগুলো সংস্কার করা হবে।

বরগুনা জেলা সিভিল সার্জন ডা: জসিম উদ্দিন জানান, কমিউনিটি ক্লিনিকের ভবনের অবস্থা খুবই খারাপ। এগুলো সংসকারের জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে পর্যায়ক্রমে সংস্কারের কাজ শুরু  করা হবে।

উক্ত প্রতিবেদনটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করা হলো

image_pdfimage_print