বিখ্যাত সুরকার, গুণী সংগীতজ্ঞ আজাদ রহমান আর নেই (ইন্নালিল্লাহি…রাজিউন)। আজ বিকাল ৪টায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে বাংলাদেশে চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সূত্রে জানা গেছে।
আজাদ রহমানের বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। বেশ কয়েক দিন আগে তার একটি অপারেশন হয়েছিল।তার মরদেহ আপাতত শ্যামলীর স্পেশালাইজড হাসপাতালে রাথা হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দাফন ও জানাজা সর্ম্পকে কোন সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়নি।

আজাদ রহমান ছিলেন একজন সুরকার, সঙ্গীত পরিচালক ও সঙ্গীতশিল্পী। পাশাপাশি তিনি উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত ও খেয়াল গানের চর্চা করেতেন। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের গানে অবদানের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালক ও কণ্ঠশিল্পী বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত সংগীত পরিচালক আজাদ রহমান ১৯৪৪ সালের ১ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।তিনি রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে খেয়ালে স্নাতক সম্পন্ন করেন।

চলচ্চিত্রের গানে তার পথচলা শুরু কলকাতার জনপ্রিয় বাংলা ছবি ‘মিস প্রিয়ংবদা’র সংগীত পরিচালনা দিয়ে।
তার গাওয়া জনপ্রিয় গানগুলো হচ্ছে, জন্ম আমার ধন্য হলো মা গো’, ‘ভালোবাসার মূল্য কত’, ‘ও চোখে চোখ পড়েছে যখনই’, ‘মনেরও রঙে রাঙাব’, ‘ডোরা কাটা দাগ দেখে বাঘ চেনা যায়’, ‘এক বুক জ্বালা নিয়ে বন্ধু তুমি’সহ বহু গান ।
এসব গানের কোনোটির সুরকার তিনি, কোনোটির সংগীত পরিচালক। রাজ্জাক পরিচালিত ছবি ‘অনন্ত প্রেম’-এ ‘ও চোখে চোখ পড়েছে যখনই’ গানটি ব্যাপক জনপিয়তা পায়।

বাংলাদেশে বাবুল চৌধুরী পরিচালিত ‘আগন্তুক’ ছবির মধ্য দিয়ে তিনি সংগীত পরিচালনা শুরু করেন।
এরপর ‘বাদী থেকে বেগম’, ‘এপার ওপার’, ‘পাগলা রাজা’, ‘অন্ত— প্রেম’, ‘আমার সংসার’, ‘মায়ার সংসার’, ‘দস্যুবনহুর’, ‘ডুমুরের ফুল’, ‘মাসুদ রানা’সহ বহু ছবির সংগীত পরিচালনা করেছেন তিনি।

তাকে বাংলা খেয়ালের প্রবর্তক বলা হয়। বাংলা একাডেমি থেকে দুই খন্ডে প্রকাশিত হয়েছে তার লেখা সংগীত বিষয়ক বই ‘বাংলা খেয়াল’।

 

 

 

 

 

 

 

বাসস

প্রতিবেদনটি জনস্বার্থে প্রকাশ করা হলো

image_pdfimage_print