মেসিকে নিয়ে আলোচনা যেন থামছেই না। দলবদলের ঝামেলা শেষে, এবার অবশ্য ভালো এক সংবাদেই হেডলাইন হলেন ক্ষুদে জাদুকর। ফোর্বস ম্যাগাজিনের নতুন সমীক্ষায় ২০২০ মৌসুমের সর্বোচ্চ আয় করা ফুটবলারের তালিকায় শীর্ষস্থানটা দখল করেছেন তিনি। পরের নামটিও অনুমিতই। বিশ্ব ফুটবলের আরেক মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। তৃতীয় এবং চতুর্থ অবস্থানে আছেন পিএসজির দুই তারকা ফুটবলার নেইমার এবং এমবাপে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত ম্যাগাজিন ফোর্বস। নিউজার্সি থেকে বছরে ৮ বার প্রকাশিত এ ম্যাগাজিনটিতে সাধারণত প্রাধান্য পেয়ে থাকে অর্থনীতি, শিল্প-বাণিজ্য, রাজনীতির বিভিন্ন বিষয়। অর্থনীতি যেহেতু তাদের অন্যতম প্রধান বিষয় তাই তাদের সমীক্ষায় উঠে আসে অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি আয় করা শীর্ষ অ্যাথলিটদের নামও। ব্যতিক্রম হয়নি এবারও। করোনা আক্রান্ত অর্থনৈতিক অবস্থাতেও যেসব ফুটবলার আয় করেছেন মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার, এবার তাদেরকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে তারা।

তালিকার শীর্ষ নামটি আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসির। ১০৫ বছরে বার্সেলোনা যেখানে জিতেছিলো ৬৪টি শিরোপা, সেখানে মেসি আসার পরের ১৬ বছরে তাদের দখলে এসেছে ৩৪টি। বিশ্বসেরা এ ফুটবলারকে খুশি রাখতে তাই তার অ্যাকাউন্টে মোটা অঙ্কের অর্থই যোগান দেয় কাতালানরা। এ মৌসুমে সর্বোচ্চ ১২৬ মিলিয়ন ডলার কামিয়েছেন তর্কসাপেক্ষে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ফুটবলার। বাংলাদেশি অংকে যার পরিমাণ প্রায় ১০৭০ কোটি টাকা! বিপুল এই আয়ের মধ্যে বার্সেলোনা থেকে বেতন বাবদ তিনি পেয়েছেন ৯২ মিলিয়ন। আর বাদ বাকি ৩৪ মিলিয়ন ডলার তার স্পন্সরদের অবদান।

পরের নামটি অবধারিতভাবেই ফুটবলের আরেক মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর। বেতন বাবদ য়্যুভেন্তাস থেকে ৭০ মিলিয়ন ইউএস ডলারের পাশাপাশি এন্ডোর্সমেন্ট থেকে তার আয় আরো ৪৭ মিলিয়ন। যার মিলিত পরিমাণ ১১৭ মিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশি অংকে সেটিও ৯৯২ কোটি টাকার বেশি।

এরপর আছেন প্যারিস সেইন্ট জার্মেইয়ের দুই তারকা ফুটবলার। ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার এবং ফরাসী তারকা কিলিয়ান এমবাপে। নেইমারের ৯৬ মিলিয়ন আয়ের বিপরীতে এমবাপের বাৎসরিক আয় ৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আরব ধনকুবেরের পকেট থেকে বেতন হিসেবে মৌসুমে যথাক্রমে ৭৮ এবং ২৮ মিলিয়ন ডলার কামান তারা।

৫ আর ৬ নম্বর জায়গায় আছেন দুই ইপিএল মাতানো ফুটবলার। লিভারপুলের মিশরীয় তারকা মোহাম্মদ সালাহ এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ফরাসী ফুটবলার পল পগবা। লিভারপুল থেকে বছরে ২৪ মিলিয়ন বেতন নেন সালাহ, বাকি ১৩ মিলিয়ন আসে স্পন্সরদের থেকে। আর মিশরীয় থেকে তিন মিলিয়ন ডলার কম আয় পগবার। বেতন কিছুটা বেশি পেলেও, বিজ্ঞাপন থেকে তার আয় বেশ অল্প।

তালিকাটিতে এরপর আছেন বার্সেলোনার ফরাসী তারকা আঁতোয়া গ্রিজম্যান এবং রিয়াল মাদ্রিদের ফরোয়ার্ড গ্যারেথ বেল। মাঠের পারফরম্যান্স যাই হোক না কেন, ব্যাংক ব্যালেন্সের দিক দিয়ে অনেকেরই ঈর্ষার কারণ এই দুই ফুটবলার। গ্রিজম্যানের বার্ষিক আয় ৩৩ মিলিয়ন ডলার। আর বছরজুড়ে রিয়ালের বেঞ্চ গরম করা বেলের আয় ২৮ মিলিয়ন ডলার।

নবম জায়গাটি একজন পোলিশ স্ট্রাইকারের। বায়ার্ন মিউনিখের ফরোয়ার্ড রবার্ট লেওয়ানডোস্কি। বাভারিয়ানদের কাছ থেকে মৌসুম প্রতি ২৪ মিলিয়ন ডলার পান তিনি। আর এন্ডোর্সমেন্ট থেকে আসে আরো ৪ মিলিয়ন।

শুধু গোল করেই যে টাকা কামানো যায় তা কিন্তু নয়। গোল আটকিয়েও কোটিপতি হওয়া যায়। প্রমাণ ডেভিড ডি হেইয়া। ফোর্বসের তালিকার শেষ নামটি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের স্প্যানিশ এ গোলরক্ষকের। বছরে তার আয় ২৭ মিলিয়ন, বেতন-ভাতা থেকেই যেখানে আসে ২৪ মিলিয়ন ডলার।

 

 

 

 

 

 

 

সময় নিউজ

প্রতিবেদনটি জনস্বার্থে প্রকাশ করা হলো

image_pdfimage_print