ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থা লাখ লাখ নারীর জীবন নিয়ে খেলা করছে বলে মন্তব্য করলেন দেশটির অলিম্পিক মেডেল জয়ী একমাত্র নারী অ্যাথলেট কিমিয়া আলীজাদেহ। এছাড়াও তিনি ইরানের রাষ্ট্রব্যবস্থাকে ‘ভণ্ড’ আখ্যা দিয়ে দেশ ছেড়েছেন।

তিনি অভিযোগ করে বলেছেন ইরানে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অ্যাথলেটদের ব্যবহার করা হয়। সম্প্রতি ইসলামিক রিপাবলিকটির নানা নিপীড়ন নিয়ে আলীজাদেহ সোচ্চার হয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থা ‘ভণ্ড’, ‘মিথ্যাবাদী’, ‘বিচারহীন‘ এবং ‘তোষণমূলক‘। তিনি বলেন, ‘আমি কেবল তায়েকোয়ান্দো, নিরাপত্তা এবং সুখী জীবন চেয়েছিলাম। ইরানের লক্ষ লক্ষ নারীর একজন আমি, যাদের নিয়ে তারা বছরের পর বছর ধরে খেলা করছে।’

পর্দাপ্রথার দিকে ইঙ্গিত করে ২১ বছর বয়সী এ নারী বলেন, ‘তারা যা পরতে বলেছে, আমি তাই পরেছি। তারা যা করতে বলেছে, তাই করেছি। কিন্তু আমাদের চাওয়ার কোনো দাম ছিল না তাদের কাছে।’

২০১৬ সালের রিও অলিম্পিকে তায়েকোয়ান্দোতে আলীজাদেহ ব্রোঞ্জ পদক জেতেন। সেসময় প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি তো বটেই, দেশটির অপেক্ষাকৃত রক্ষণশীল অংশের পক্ষ থেকেও প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার আলীজাদেহর নিখোঁজ হওয়ার সংবাদ প্রথম প্রকাশ্যে আসে। দেশটির আইএসএনএ সংবাদ সংস্থা শিরোনাম করে, ‘ইরানের তায়েকোয়ান্দোর জন্য ধাক্কা। কিমিয়া আলীজাদেহ নেদারল্যান্ডসে পাড়ি জমিয়েছেন।’

এরপরই এ নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা। ইরানের সংসদ সদস্য আবদুলকারিম হোসেইনজাদেহ দেশের ‘সম্পদ’-এর এভাবে ‘পালিয়ে যাওয়া’ আটকাতে ব্যর্থ হওয়ায় ‘অযোগ্য কর্মকর্তাদের’ দায়ী করেন।

তবে অ্যাথলেট কিমিয়া আলীজাদেহ জানান, ইউরোপে তাকে কেউ আমন্ত্রণ জানায়নি। কোন দেশে তিনি আছেন, সে বিষয়েও বলেননি কিছু। কিন্তু তিনি নেদারল্যান্ডসে আশ্রয় নিয়েছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে।

আলীজাদেহর মাধ্যমে ইরান আবারও টোকিও অলিম্পিকে পদক পাওয়ার আশা করছিল। বিভিন্ন সূত্রের কথা উল্লেখ করে ইরানের গণমাধ্যম বলছে, আলীজাদেহ টোকিও অলিম্পিকে অংশ নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ঠিকই, তবে ইরানের পতাকা নিয়ে নয়। আবার

আলীজাদেহ তার পরবর্তী কর্মপরিকল্পনার কথা না জানালেও ‘প্রিয় ইরানি জনগণকে’ উদ্দেশ্য করে বলেছেন, তিনি যেখানেই থাকুন ‘ইরানের সন্তান’ হিসেবেই থাকবেন।

 

 

সূত্র: ডয়চেভেলে,সময় নিউজ

প্রতিবেদনটি জনস্বার্থে প্রকাশ করা হলো

image_pdfimage_print