রাজাকারের তালিকা প্রকাশের ক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় যে কাজটি করেছে সেটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং অগ্রহণযোগ্য। তারা খুবই গুরুত্বহীন ও দায়সারাভাবে রাজাকারদের তালিকা প্রকাশের কাজটি করেছেন। রেডিও তেহরানকে দেয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে একথা বলেছেন সিনিয়র সাংবাদিক ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল।

  • তিনি বলেন, ৭১ সালে যাদের নামে দালালি আইনে মামলা হয়েছিল এবং পরে মুক্তি পেয়েছিল এটি তাদের তালিকা। পুরো বিষয়টি গুবলেট করে ফেলা হয়েছে।
  • মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী নিজে এ বিষয়ে দুঃখপ্রকাশ করেছেন এবং দুঃখপ্রকাশ অব্যাহত থাকা উচিত।
  • আমরাও দুঃখপ্রকাশ করছি সেইসব মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে যাদের নাম রাজাকারদের তালিকায় এসেছে।
  • রাজনৈতিক নেতা হিসেবে, একটি মন্ত্রণালয়ের প্রধান হিসেবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী ব্যর্থ হয়েছেন।
  • তিনি পদত্যাগ করবেন কি না এটি তাঁর সিদ্ধান্ত।
  • রাজাকারের তালিকার মধ্যে কি করে মুক্তিযোদ্ধাদের নাম ঢুকল তা খতিয়ে দেখতে হবে।
  • সরিষার মধ্যে ভূত আছে।

পুরো সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ ও উপস্থাপনা করেছেন গাজী আবদুর রশীদ।

রেডিও তেহরান: জনাব বুলবুল, মুক্তিযুদ্ধের সময় যেসব রাজাকার তৎপর ছিল তাদের তালিকা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। কিন্তু সে তালিকায় বেশ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার নাম রয়েছে। এ নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। যদিও সেই তালিকা স্থগিত করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী এজন্য দুঃখপ্রকাশ ও ক্ষমা চেয়েছেন। তারপরও বিষয়টি এখনও টক অব দ্যা কান্ট্রি। তো বিষয়টিকে আপনি কিভাবে দেখছেন?

মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল: দেখুন, বিজয় দিবসের দিনে রাজাকারদের তালিকা প্রকাশের মধ্য দিয়ে একটি বড় কাজ হতে পারত। যদি একটি ভালো তালিকা প্রকাশ করা যেত। কিন্তু এবার বিজয় দিবসের প্রাক্কালে একটি ভুলে ভরা ক্রটিপূর্ণ তালিকা প্রকাশের কারণে সেটা হয় নি। শুধু তাই নয় রাজাকারদের ওই তালিকার মধ্যে অনেক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের নাম থাকায় সেটি আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের খুবই আহত করেছে। এ বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। অ্যাকাডেমিকভাবে আমি বলব, একটি দেশে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে। আর নানা ঐতিহাসিক প্রয়োজনে মুক্তিযুদ্ধের সকল তথ্য খুব পরিচ্ছন্ন ও সম্পাদিতভাবে প্রকাশ করা উচিত এবং আমাদের আর্কাইভে থাকা উচিত। আর সেটি খুব প্রস্তুতি নিয়ে করা উচিত। কোনো ব্যক্তিকে, গোষ্ঠীকে বা কোনো পরিবারকে আহত করার উদ্দেশ্যে এটা করা উচিত নয়। আর সামগ্রিক বিবেচনায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক যখন বলেছিলেন, রাজাকারদের একটি তালিকা প্রকাশ করা হবে। তখন ভেবেছিলাম দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা থাকলেও এর আগে যেটি প্রকাশ করা সম্ভব হয় নি সেটি যদি প্রকাশ করা হয় তাহলে খুব ভালো হবে।

আমি এ প্রসঙ্গে বলতে চাই যে, বাংলাদেশে বেসরকারিভাবে কিন্তু এ কাজটি করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ গবেষক জনাব শামসুল আরেফিন মুক্তিযুদ্ধে ব্যক্তির অবস্থান নিয়ে একটি বই লিখেছেন। সেখানে ৭১ সালে কে কি করেছেন সে সম্পর্কে অনেক তথ্য-উপাত্ত আছে। সেই বইটিকে কেউ চ্যালেঞ্জ করে নি। তিনি কয়েকটি জেলার রাজাকারদের তালিকাও করেছেন। সে সম্পর্কেও কেউ চ্যালেঞ্জ করে নি। অথচ আমাদের সরকারিভাবে যখন এ উদ্যোগটি গ্রহণ করা হলো তখন ভেবেছিলাম যে একটি ভালো পরিচ্ছন্ন তালিকা হবে যে তালিকাটি মুক্তিযুদ্ধ গবেষণায় ভবিষ্যতে কাজে লাগবে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় যে কাজটি করেছে সেটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং অগ্রহণযোগ্য। এখন মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় দায় চাপাচ্ছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের ওপর। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় বলছে এটি আদৌ রাজাকারদের তালিকা নয়; এটি দালালদের তালিকা। ৭১ সালে যাদের নামে দালালি আইনে মামলা হয়েছিল এবং পরে মুক্তি পেয়েছিল এটি তাদের তালিকা। অর্থাৎ পুরো বিষয়টি গুবলেট করে ফেলা হয়েছে। আমি মনে করি মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় একটি খুবই হতাশাজনক কাজ করেছে। এটি তাড়াহুড়া করে প্রকাশের কোনো প্রয়োজন ছিল না। ওয়েবসাইটে গিয়ে রাজাকারদের তালিকার ধরনটি যদি দেখেন তাহলে দেখলেই বোঝা যাবে দায়সারা গোছের কিছু কাগজ কোথাও থেকে এসেছে সেটিকে তালিকা আকারে প্রকাশ করা হয়েছে।

রেডিও তেহরান: জনাব মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, আপনি বললেন দায়সারা গোছের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তবে  আমরা দেখলাম, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক দাবি করেছেন, তালিকা তৈরি করতে গিয়ে তারা যথাযথ সহযোগিতা পান নি; জেলা প্রশাসকরা নাকি তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সহযোগিতা করেন নি। মন্ত্রীর এই দাবি কতটা গ্রহণযোগ্য?

মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল: দেখুন, একজন মন্ত্রী যখন বলেন যে, মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেয়ার পরও জেলাপ্রশাসকরা তাকে সহায়তা করে নি এর চাইতে অগ্রহণযোগ্য কথা আর কিছুই হতে পারে না। কারণ একটি মন্ত্রণালয় বা একজন মন্ত্রী যখন কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সেটা সরকারের সিদ্ধান্ত। একজন জেলা প্রশাসক বা মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা তিনি যত প্রভাবশালী হোন না কেন সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত তারা বাস্তবায়ন করবে না একথা মেনে নিতে পারি না।

আর যদি এরকম হয়ে থাকে তাহলে মন্ত্রণালয়কে প্রথমে তালিকা করতে হবে যে, কারা বা কোন কর্মকর্তা তাদের সিদ্ধান্ত মানে নি। আর যদি তারা না মেনে থাকে তাহলে কেন মন্ত্রী এককভাবে তালিকা প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিলেন?

এরইমধ্যে আমরা জেনেছি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর দায় নিচ্ছে না যেকথা আমি আগেই বলেছি। আর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এরইমধ্যে বলেছেন, ব্যস্ত থাকার কারণে এদিকে নজর দিতে পারেন নি। তাহলে প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলোচনা করে চূড়ান্ত তালিকাটি প্রকাশ করা হয়েছে এমনটি বলা যাবে না। তারমানে হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় নিজের উদ্যোগে কাজটি করেছে। তিনি ধারনা করেছিলেন এটি একটি বিশাল কাজ হবে আর তার পুরো সাফল্যটাই তিনি এককভাবে নেবেন। কিন্তু যখন দেখা গেল তালিকাটি ব্যর্থতায় ভরা তখন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী কখনও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওপর দায় চাপাচ্ছেন। কখনও মাঠের কর্মকর্তাদের ওপর দায় চাপাচ্ছেন এখন আবার তিনি বলছেন ২৬ মার্চে তিনি নতুন তালিকা প্রকাশ করবেন। এটিকেও আমি মেনে নিতে পারছি না। কারণ মাত্র ২/৩ মাসের মধ্যে পুরো তালিকা কিভাবে পরীক্ষা নিরীক্ষা করবেন! মাঠ পর্যায় থেকে সংগ্রহ করবেন! আমি মনে করি সেটাও একটা কঠিন প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছেন।

আমি মনে করি মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের কাজ হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংগ্রহ করা ও সংরক্ষণ করা। মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ করা। কাজেই ইতিহাস সংরক্ষণের দায়িত্ব হিসেবে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় যে কাজটি করতে পারে সেটি হচ্ছে মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনের কাছ থেকে তালিকা তথ্য উপাত্ত বা তালিকা সংগ্রহ করতে পারে।

এরইমধ্যে আমরা জানতে পেরেছি প্রথম পর্যায়ে তাদের নাম প্রকাশ করা হবে যারা ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সরকারের বেতন ভাতা পেতেন। এটি প্রশাসনের কাছে আছে। তবে প্রশাসনের কাছে এই তালিকাও কিভাবে আছে তা আমি জানি না! আর্কাইভ ঘেটে আজ থেকে ৪৮ বছর আগের তালিকাটা যদি তারা বের করতে পারেন তাহলে খুব ভালো। সেই তালিকাটা তারা সংগ্রহ করুন। মুক্তিযু্দ্ধ নিয়ে যারা গবেষণা করেন তাদের সাথে বসুন এবং পর্যালোচনা করুন। এমনটি যেন আবার না হয় যে একটি তালিকা আসলো আর সেটি নিয়ে কোনো গবেষণা ও পর্যালোচনা না করেই ছাপিয়ে দেয়া হলো। এমনটি তো কোনো দায়িত্বশীল কাজ হতে পারে না।

রেডিও তেহরান: জনাব বুলবুল, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আরও একটি কথা বলেছেন, তিনি বলেছেন, পাকিস্তানিদের করা তালিকাই প্রকাশ করেছেন তারা। বক্ততব্যটা কতটা সমর্থনযোগ্য?

মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল: এটিও খুব হাস্যকর বক্তব্য। তিনি কেন পাকিস্তানিদের তালিকা প্রকাশ করবেন। তিনি তো পাকিস্তানের মন্ত্রী নন। পাকিস্তানিদের তালিকা কতটা সত্য কতটা মিথ্যা তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। স্বাধীনতা উত্তরকালে কিশোরগঞ্জের দুষ্কৃতিকারীদের যে তালিকা প্রকাশ করা হলো তাতে দেখা গেল এক নম্বরে রয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমান। জিল্লুর রহমান তখন আওয়ামী লীগ করতেন। অথচ সঙ্গত কারণেই পাকিস্তানিদের তালিকায় জিল্লুর রহমানের নাম থাকবে। কাজেই পাকিস্তানিদের তালিকা প্রকাশ করাটাও একটা বিভ্রান্তিকর তথ্য। তবে আমার ধারনা তিনি একথা বলতে চেয়েছিলেন যে, পাকিস্তান প্রশাসনের বেতনভোগী যারা ছিলেন তাদের তালিকা তিনি প্রকাশ করতে চেয়েছেন। তবে সে বিষয়টিও তিনি পরিষ্কার করতে পারেন নি।

আমি বলব এটি খুব স্পর্শকাতর বিষয়। ৪৮ বছর পর যখন একটি তালিকা প্রকাশের উদ্যোগ নেয়া হলো তখন নানা দিক থেকে বিবেচনা করে সেটা করতে হতো। যাতে করে কোনো বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করে সেজন্য গবেষণার মাধ্যমে সেটা প্রকাশ করা উচিত । অহেতুক কোনো ব্যক্তির নাম যেমন প্রকাশ করা ঠিক হবে না আবার যারা প্রকৃত দোষী ছিলেন তাদের নামও বাদ দেয়া উচিত হবে না। কাজেই গবেষণার মাধ্যমে এরকম একটি তালিকা হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় খুবই গুরুত্বহীন ও দায়সারাভাবে রাজাকারদের তালিকা প্রকাশের কাজটি করেছেন। যারফলে সারাদেশে নিন্দার ঝড় উঠেছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী নিজে দুঃখপ্রকাশ করেছেন। আমরাও দুঃখপ্রকাশ করছি সেইসব মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে যাদের নাম রাজাকারদের তালিকায় এসেছে। কারণ বিজয় দিবসের সময় তাদেরকে সম্মানিত করার কথা অথচ একটা ভুয়া তালিকায় তাদের নাম দিয়ে তাদেরকে অপমানিত করার চেষ্টা করলাম। এর দায় আমাদেরকেও নিতে হবে। কাজেই আমি মনে করি মন্ত্রণালয় সমস্ত দায় নিয়ে পরিচ্ছন্নভাবে ভবিষ্যতে একটি তালিকা তৈরির চেষ্টা করবে।

রেডিও তেহরান: জনাব বুলবুল সবশেষে আপনার কাছে জানতে চাইব, রাজাকারের তালিকায় মুক্তিযোদ্ধাদের নাম আসা এটি মারাত্মক ভুল। আর এ ভুলের দায়ে মন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত বলে বিভিন্ন পর্যায় থেকে দাবি উঠছে। বিষয়টি নিয়ে রাজনীতিও হচ্ছে। তো এই ভুলের দায় কি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী এড়াতে পারেন?

মঞ্জুরুল ইসলাম বুলবুল: না, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী এর দায় এড়াতে পারেন না। কারণ রাজনৈতিকভাবে ওই মন্ত্রণালয়ের প্রধান হচ্ছেন তিনি। এটি যদি একটি সঠিক তালিকা হতো তাহলে সব প্রশংসা তিনিই পেতেন। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে আ ক ম মোজাম্মেল হক সাহেবকে চিনি। মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে তিনি জয়দেবপুরে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছেন। কাজেই তার ব্যক্তিগত কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যের কারণে এ ধরনের  ঘটনা ঘটেছে বলে আমি মনে করি না। তবে আমি এটি মনে করি রাজনৈতিক নেতা হিসেবে, একটি মন্ত্রণালয়ের প্রধান হিসেবে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন।

এখন তিনি পদত্যাগ করবেন কি করবেন না এটি তাঁর সিদ্ধান্ত। নিশ্চয়ই তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে ও তার দলীয় নেতাদের সাথে কথা বলবেন। এটি একটি বিষয়। আরেকটি বিষয় হচ্ছে, রাজাকারদের তালিকা প্রকাশে যে ভুল হয়েছে সেজন্য এরইমধ্যে তিনি দুঃখপ্রকাশ করেছেন এবং এই দুঃখপ্রকাশ জারি রাখতে হবে। এছাড়া যে বিষয়টি আমি বলব সেটি হচ্ছে, রাজাকারদের তালিকার মধ্যে কি করে মুক্তিযোদ্ধাদের নাম ঢুকল, কারা ঢুকালো সেটি মাঠ পর্যায়ে হোক বা তার মন্ত্রণালয় থেকে ঢুকুক-সেইসব দুর্বৃত্তদের চিহ্নিত  করতে হবে। কারণ আমি মনে করি সরিষার মধ্যে ভূত আছে।

বরিশালের, সিরাজগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধাদের নাম এবং গোলাম আরিফ টিপুর নাম তো রাজাকারদের তালিকায় ঢুকে যাওয়ার কোনো কারণ নেই। কাজেই যাদের গাফিলতির জন্য এ ধরনের কাজ হয়েছে তাদেরকে চিহ্নিত করা উচিত এবং মন্ত্রণালয়ের প্রধান রাজনৈতিক নেতা হিসেবে এর দায় তাঁকে গ্রহণ করতে হবে। আর সে দায় তাঁকে বিবেকতাড়িত করে কি না এবং সেজন্য তিনি পদত্যাগ করবেন কি না সেটা তাঁর সিদ্ধান্ত। তবে আমি মনে করি এর দায় তিনি এড়াতে পারেন না।

 

 

 

 

পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ

প্রতিবেদনটি জনস্বার্থে প্রকাশ করা হলো

image_pdfimage_print