মোদির মন্তব্যে ক্ষুব্ধ মনমোহন, ক্ষমা চাওয়ার দাবি, দায়িত্বজ্ঞানহীন বলল পাকিস্তান

687989689সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা মনমোহন সিং এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাম্প্রতিক এক মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে যে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন তাতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আজ ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গতকাল (রোববার) গুজরাটে এক নির্বাচনি জনসভায় ভাষণ দেয়ার সময় অভিযোগ করেন গুজরাটে বিজেপিকে হারাতে কংগ্রেস পার্টি পাকিস্তানের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করছে। সম্প্রতি কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা মণিশঙ্কর আইয়ারের বাড়িতে এক গোপন বৈঠকে সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট হামিদ আনসারি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ছাড়াও পাকিস্তানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী খুরশিদ কাসুরি ও ভারতে নিযুক্ত বর্তমান পাক রাষ্ট্রদূত উপস্থিত ছিলেন বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

পাকিস্তানের লোকেদের সঙ্গে ‘গোপন বৈঠক’ করার কী কারণ তা নিয়ে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন মোদি। পাকিস্তানে সেনা ও গোয়েন্দা বিভাগে কাজ করেছেন এমন উচ্চপদস্থ ব্যক্তিরা গুজরাটে আহমেদ প্যাটেলকে (কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা) মুখ্যমন্ত্রী করার জন্য সাহায্যের কথা বলছেন কেন? এ প্রশ্নও করেন প্রধানমন্ত্রী।এরপর থেকে তার ওই মন্তব্য নিয়ে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।

আজ (সোমবার) পাক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়য়ের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলা হয়েছে ওই দাবির কোনো ভিত্তি নেই। এটি সম্পূর্ণ দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য। ভারতের নির্বাচনি বিতর্কে পাকিস্তানকে টানা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত।’ নিজেদের শক্তিতে নির্বাচনে জেতা উচিত বলেও পাকিস্তানের পক্ষ থেকে মন্তব্য করা হয়।

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পাল্টা জবাবে আজ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবীশঙ্কর প্রসাদ বলেন, ‘পাকিস্তান যেন ভারতের গণতন্ত্র নিয়ে যেন কোনো উপদেশ না দেয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্পর্কে তো নয়ই।’ তিনি বলেন, ‘দেশের গণতন্ত্র নিয়ে আমরা গর্বিত। দেশে কে জয়ী হবে তা ভারতের মানুষই ঠিক করবে।’

এ নিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বলেন, ‘কেবলমাত্র রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে এমন মিথ্যা কথা ছড়াচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। দলীয় ফায়দার জন্য তিনি সাংবিধানিক মর্যাদার দিকেও খেয়াল রাখছেন না এজন্য তার ক্ষমা চাওয়া উচিত।’

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘সাংবিধানিক পদে বসে উনি মিথ্যা ঐতিহ্যের সৃষ্টি করছেন। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক সেনাপ্রধানের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ণ করছেন। কংগ্রেসকে কোনো দল বা প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে জাতীয়তাবাদ শিখতে হবে না। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার দীর্ঘ ট্রাক রেকর্ড রয়েছে কংগ্রেসের।’

সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বলেন, ‘আমি মনে করিয়ে দিতে চাই যে, মোদি উধমপুর ও গুরুদাসপুরে হামলার পরেও তিনি বিনা আমন্ত্রণে পাকিস্তানে গিয়েছিলেন। আমার আশা মোদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুবাদে তিনি পরিপক্কতা দেখিয়ে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবেন।’

অন্যদিকে, মণিশঙ্কর আইয়ারের বাসায় বৈঠকে উপস্থিত থাকা সাবেক সেনাপ্রধান দীপক কাপূর গণমাধ্যমে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, আইয়ারের বাড়িতে বৈঠক হয়েছিল ঠিকই। কিন্তু, সেখানে ভারত-পাকিস্তান দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়। গুজরাত বা অন্য কোনো নির্বাচন নিয়ে বিন্দুমাত্র কোনো কথা হয়নি।

কংগ্রেস নেতা আনন্দ শর্মা বলেছেন, ‘ভারতের সাবেক ভাইস-প্রেসিডেন্ট ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আরোপিত মোদির অভিযোগ অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন, অন্যায় ও নিন্দনীয়।’

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে মনে রাখা উচিত সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া যেখানে উচ্চ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন তা কোনো গোপন বৈঠক হতে পারে না। ওই বৈঠকে ভারতের সাবেক সেনাপ্রধান,ভারতের সাবেক রাষ্ট্রদূত, বিশিষ্ট সাংবাদিকসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন বলেও কংগ্রেস নেতা আনন্দ শর্মা বলেন।  পার্সটুডে

উক্ত প্রতিবেদনটি জনস্বার্থে প্রকাশ করা হলো