বার্সেলোনা ছাড়া অন্য কোন ক্লাবে লিওনেল মেসিকে কল্পনাও করা মুশকিল। তবে নির্মম সত্য হচ্ছে, সেই সম্পর্কের ইতি ঘটতে যাচ্ছে হয়তো শীঘ্রই। কাতালুনিয়া ছেড়ে মেসির অন্য গন্তব্যে ঠিকানা খুঁজে নেয়ার গুঞ্জনটাই এখন গণমাধ্যমের শিরোনামে।

সাম্প্রতিক কালের সবচেয়ে বাজে মৌসুমটা কাটানোর পর সমীকরণটা বেশ সহজ হয়ে গেছে। মেসির ক্লাব ছাড়ার গুঞ্জনটা আরো জোরালো হয়েছে। সেই গুঞ্জনের আগুনে বারুদ জুগিয়েছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের লজ্জাজনক হার।

কেবল মাঠের ফুটবলই নয়, প্রিয় ক্লাব ছাড়ার সিদ্ধান্তে বড় যোগান দিয়েছে মাঠের বাইরে ঘটনাগুলোও। ক্লাবের একের পর এক কূটনৈতিক সিদ্ধান্তে কোনভাবেই সায় জানাতে পারছেন না মেসি।

আগামী মৌসুমে শেষ হচ্ছে চুক্তি। নতুন চুক্তিতে আসার আর কোন সম্ভাবনা দেখছে না বার্সেলোনাও। তাই তো বিশ্বসেরা ফুটবলারকে বিক্রি করে সংকটের দিনে কিছু অর্থ কামিয়ে নেয়ার দিকেই ঝুঁকছে ক্লাবও।

যদি শেষ পর্যন্ত মেসিকে ছেড়েই দেয় কাতালানরা, কেমন মূল্যে তাকে ছাড়বে ক্লাবটি?

লিওনেল মেসির বর্তমান রিলিজ ক্লজ ৭০০ মিলিয়ন ইউরো। ২০১৭ সালে ক্ষুদে জাদুকরের সঙ্গে ৪ বছরের চুক্তিস্বাক্ষরের সময় এই অংক বেঁধে দেয় কাতালানরা। এর আগে তার রিলিজ ক্লজ ছিল ৩০০ মিলিয়ন ইউরো। ২০১৭ সালে রেকর্ড ২২২ মিলিয়নে নেইমারকে পিএসজি কিনে নেয়ার পর, মেসির অংকটা পাহাড়সমান করে দেয় বার্সা। কারণ বিশ্বসেরা ফুটবলারকে কেনার কথা কেউ যেন স্বপ্নেও ভাবতে না পারে। তারপরও কি তাকে আটকে রাখতে পারছে ক্লাবটি!

রেকর্ড ৬ বারের ব্যালন ডি অর জয়ীকে এরপরও কেউ কিনতে চাইলে দিতে হবে ৭০০ মিলিয়ন ইউরো। এই মূল্য কেউ হাঁকালে হয়তো উপায়ন্তর না দেখে তাকে ছেড়েই দিতো বার্সা।

আরো পড়ুন: মেসির সঙ্গে বার্সার বিচ্ছেদ কয়েক দিনের মধ্যেই

এমন একটা দলবদল হলে নিঃসন্দেহে পুরো বিশ্ব একটা বড়সড় ধাক্কা খেতো। কারণ ২২২ মিলিয়নে নেইমারের দলবদলের পরই বিশ্বে মোটামুটি হুলস্থূল পড়ে যায়।

তবে পাশার দান এখন উল্টে গেছে। এখন ক্লাব ছাড়তে চাইছেন স্বয়ং মেসিই! আর সেক্ষেত্রে ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে হিসেব করলে, অংক কমিয়ে হলেও তাকে ছেড়ে দিতে হবে বার্সেলোনাকে। কারণ দলের সেরা খেলোয়াড় যদি খেলতেই না চান তাহলে পাহাড়সমান অংক খরচ করে তাকে আটকে রেখে লাভ কি? তাছাড়া, নতুন চুক্তিতে মেসি স্বাক্ষর না করলে, আগামী মৌসুমে চুক্তি শেষ হয়ে গেলে বিশ্বসেরা ফুটবলারকে একেবারে বিনাপয়সায় ছেড়ে দিতে হবে ক্লাবটিকে। তারচেয়ে কিছু আয় করে নেয়াই কি শ্রেয় নয়? ক্লাব কর্তারা আপাতত ভাবছেন এমনটাই।

শেষ পর্যন্ত ক্লাব ছাড়ার সিদ্ধান্তে অনড় থাকলে ২০০ মিলিয়ন ইউরো ট্রান্সফার মানিতে আর্জেন্টাইন তারকাকে নাকি ছেড়ে দেবে কাতালান ক্লাবটি। ইতালিয়ান একটি গণমাধ্যম বলছে এমনটাই।

করোনার ধাক্কা পেরিয়ে ফুটবল ফিরেছে মাঠে ঠিকই, তবে ইউরোপিয়ান ক্লাবগুলোর সেই বড় গলা এখন আর নেই। কারণ আর্থিক মন্দায় ভুগছে সবাই। আর তাই তো যাকে সারাজীবন ক্লাবে ভেড়ানোর স্বপ্নই দেখেছে সবাই, সেই তারকাকে এখন দলবদলের বাজারে পেয়েও হাত বাড়াতে পারছে না সবাই। মেসিকে যে বিশাল অংক দিয়ে কিনতে হবে কেবল তাই নয়, বেতনভাতা বাবদ তার পেছনে প্রচুর অর্থও তো ব্যয় করতে হবে? সেই সামর্থ্যই বা আছে কয়টা ক্লাবের?

তারপরও কিছু ক্লাব এখনো আশা ছাড়েনি। যেমন ম্যানচেস্টার সিটি, ইন্টার মিলান কিংবা পিএসজি। ধরা হচ্ছে, মেসির সম্ভাব্য গন্তব্য এই তিন ক্লাবের যেকোনো একটি।

আরো পড়ুন: আমি থাকলে কোনভাবেই মেসিকে যেতে দিতাম না : রোনালদো

সিটিজেনদের জন্য বড় একটি সুযোগ, তাদের ডাগআউটে আছেন এখন পেপ গার্দিওলা। ইউরোপীয় বিশ্লেষকরা বলেন, মেসি হচ্ছেন পেপ গার্দিওলার সন্তানের মতো। প্রিয় গুরুর কাছে কি আরো একবার ফিরে যাবেন আর্জেন্টাইন সুপারস্টার? এরইমধ্যে ক্লাবটিও ঘোষণা দিয়ে রেখেছে, মেসির জন্য যেকোনো পরিমাণ অর্থ দিতে রাজি তারা।

ইতালিয়ান জায়ান্ট ইন্টার মিলান দীর্ঘদিন ধরেই লেগে আছে এলএমটেনকে দলে ভেড়াতে। সান সিরোতে তার যাওয়ার সম্ভাবনাও দেখেন অনেকেই।

ইউরোপের অন্যতম ধনী ক্লাব পিএসজিও বেশ ভালোভাবেই আছে দৌড়ে। আগেরবার নেইমারকে ভিড়িয়ে যারা হৈচৈ ফেলে দিয়েছিল, মেসির দিকে তারা হাত বাড়িয়ে রেখেছে আরো অনেক আগে থেকেই।

তবে বেশিদিন আর গুঞ্জন থাকবেনা। শীঘ্রই একটা সিদ্ধান্ত জানা যাবে। এরইমধ্যে একটা সময়সীমা ধরে এগোচ্ছেন বার্সা সভাপতি হোসে মারিয়া বার্তোমেউ। ৩১ আগস্টের মধ্যে মেসির থাকা-না থাকা নিয়ে একটা পরিষ্কার ধারণা পেতে চাইছেন তিনি।

 

 

 

 

 

 

সময় নিউজ

প্রতিবেদনটি জনস্বার্থে প্রকাশ করা হলো

image_pdfimage_print