শিউরে ওঠার মতো দৃশ্য। গলায় পাইথন জড়ানো অবস্থায় ঘরের মেঝেতে পড়ে রয়েছেন মহিলা। গোটা বাড়িজুড়ে ঘোরাফেরা অন্তত ১৪০টি সাপের। এরকমই মর্মান্তিকভাবে মৃত্যু হল এক মার্কিন মহিলার।

লরা হার্স্ট। মধ্য আমেরিকার ইন্ডিয়ানার ওক্সফোর্ডের বাসিন্দা তিনি। সর্পপ্রেমী এই মানুষটির প্রাণ নিল সেই সাপই। পুলিশের তরফে কিম রিলে জানাচ্ছেন, গত বুধবার লরার পাশের বাড়ি থেকে এমন ভয়ংকর অবস্থায় তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। দেখা যায়, প্রায় আড়াই মিটার (আট ফুট) দীর্ঘ একটি পাইথন জড়িয়ে রয়েছে তাঁর গলায়। চিকিৎসকরা তাঁর গলা থেকে সেই পাইথন ছাড়ানোর চেষ্টাও করেন। কিন্তু সেটি এমনভাবেই তাঁর গলা জাপটে ছিল, যে তাকে কোনওভাবেই আলাদা করা যায়নি।

পাইথনে কোনও বিষ নেই। আফ্রিকা, এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ায় মোট ৩০ ধরনের পাইথন পাওয়া যায়। যাদের মধ্যে কিছু পাইথন দৈর্ঘ্যে বেশ লম্বা। তাদের দাঁতই আসল অস্ত্র। আক্রান্তকে এমনভাবে কামড়ায়, যে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েও মৃত্যু হতে পারে। তবে এক্ষেত্রে ঠিক কী ঘটেছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এক সংবাদমাধ্যমকে রিলে বলেন, “মৃতদেহ দেখে মনে হচ্ছে, দীর্ঘক্ষণ সেই বিরাট সাপটির সঙ্গে লড়াই করেছিলেন লরা। তবে ময়নাতদন্ত না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যু নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলা যাবে না।”

প্রশ্ন হল, যে বাড়িটিতে মানুষের বাস, সেখানে এত সাপ কী করছিল? আসলে জানা গিয়েছে, বেন্টন কাউন্টি শেরিফ এবং ডন মুনসনের পরিবার সাপ সংগ্রহ করতে ভালবাসত। সেখানেই নিজের ২০টি সাপ রেখেছিলেন প্রতিবেশী লরা। আর বেন্টনদের বাড়িতেই ঘটে এই কাণ্ড। এমন দুর্ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। বলছেন ডন। তিনিই প্রথম লরার মৃতদেহ দেখে পুলিশে খবর দেন। ৩৬ বছরের লরার মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ তাঁর পরিবার। এই ঘটনার পর সতর্ক হচ্ছেন ডন ও বেন্টনের বাড়ির অন্যান্য সদস্যরাও।

 

 

 

 

সংবাদ প্রতিদিন

প্রতিবেদনটি জনস্বার্থে প্রকাশ করা হলো

image_pdfimage_print