সৈয়দপুরে দুস্থদের মাঝে সেনাবাহিনীর ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরন

[নীলফামারী সংবাদদাতা] নীলফামারীর সৈয়দপুরে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে দুস্থ মানুষের মধ্যে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরন করা হয়েছে। ২২ মে শুক্রবার দিনব্যপী উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মোট ১২৫ টি পরিবার এর মাঝে এসব বিতরন করা হয়। দিনাজপুরের পার্বতীপুর খোলাহাটি শহীদ মাহবুবুর রহমান ক্যান্টনমেন্ট এর ১৯ মিডিয়াম রেজিমেন্ট আর্টিলারী ইউনিট এর পক্ষ থেকে এ উপহার প্রদান করেন লেঃ কর্নেল আরিফ, ক্যাপ্টেন ইহসান। এসময় উপস্থিত ছিলেন ওয়ারেন্ট অফিসার আলী হোসেন, কর্পোরাল জাহাঙ্গীর আলম ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গণ এবং সংবাদকর্মীবৃন্দ।

লেঃ কর্নেল আরিফ জানান, করোনা প্রাদূর্ভাবের পর থেকে সেনাবাহিনী দেশব্যপী ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের পাশে আছে। তারই অংশ হিসাবে আজ এ উপহার দেয়া হচ্ছে। নীলফামারী জেলার প্রতিটি উপজেলাসহ পৌর এলাকার প্রায় ৩৭৫ জনকে এই ঈদ উপহার সামগ্রী দেয়া হচ্ছে। এছাড়া গতকাল ঝরে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের মাঝে যাদের ঘর বাড়ি ভেঙে গেছে তাদের তাৎক্ষনিকভাবে ঘর কওে তৈরী করে দিচ্ছি।
তিনি আরও বলেন আমাদের সহযোগিতা অব্যহত থাকবে । সকল দূর্যোগে সেনাবাহিনী মানুষের পাশে আছে, আগমীতেও থাকবে।

ঈদ উপহার পেলো ৭৮০০ দরিদ্র পরিবার

নীলফামারীতে সাত হাজার ৮০০ পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পৃথক স্থানে এসব সামগ্রি বিতরণ করে জেলা পরিষদ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ভিশন-২০২১ ও সেফ ফাউ-েশন।

সকাল ১০টার দিকে জেলা পরিষদের উদ্যোগে পাঁচ হাজার দরিদ্র পরিবারে মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার বিতরণ কর্মসূচি শুরু করে। জেলা শহরের বড়মাঠে ওই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন। এরপর জেলা সদরের নটখানা, ডিমলা, ডোমার, সৈয়দপুর, জলঢাকা ও কিশোরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা পরিষদের সচিব জয়নুল আবেদীন, সদস্য ইসরাত জাহান, সাইদুর রহমান, আব্দুল হান্নান সরকার প্রমুখ। ঈদ উপহার হিসেবে প্রত্যেকের মধ্যে চাল ১০ কেজি, সেমাই এক কেজি, চিনি আধা কেজি, গুড়া দুধ ও একটি সাবান বিতরণ করা হয়।

অপরদিকে বেলা ১১টার দিকে জেলা শহরের রাবেয়া বালিকা বিদ্যা নিকেতন চত্বরে ৪০ জন এতিম শিশুসহ ২০০ দরিদ্র পরিবারে ঈদ উপহার বিতরণ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বতীপুর খোলাহাটি সেনানিবাস ১৯ মিডিয়াম রেজিমেন্ট আর্টিলারী ইউনিট। ওই ইউনিটের পক্ষে এসব পরিবারের হাতে ঈদ উপহার তুলে দেন মেজর এরফান করিম।

এসময় উপস্থিত ছিলেন লেফটেন্যান্ট তানজীম আহমেদ শাকিল। ওই ঈদ উপহারের মধ্যে রয়েছে আতব চাল, ডাল, গুড়া দুধ, সেমাই, চিনি, সুজি, আলু ও রান্নার বিভিন্ন মসলা।

বেলা ১২টার দিকে সদর আসনের সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূরের আর্থিক সহযোগিতায় ৪০০ দরিদ্র নারীর মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করেছে সেচ্ছাসেবী সংগঠন ভিশন-২০২১ নীলফামারী। জেল শহরের টিএ-টি চত্বরে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে প্রত্যেককের হাতে ঈদ উপহার হিসেবে একটি করে শাড়ি, চাল, সেমাই, চিনি ও সাবান বিতরণ করা হয়। ওই বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেওয়ান কামাল আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মতাজুল হক, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মসফিকুল ইসলাম রিন্টু, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবুজার রহমান, ভিশন-২০২১ এর প্রধান সমন্বয়ক ওয়াদুদ রহমান, সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সান্তনা চক্রবর্তী, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ সরকার প্রমুখ।

এদিকে জেলা সদরের বিভিন্ন ইউনিয়নের দুই হাজার পরিবারে ঈদ উপহার হিসেবে পোলাওয়ের চাল, সেমাই, আটা, দুধ, কিসমিস বিতরণ করেছে সেচ্ছাসেবী সংগঠন সেফ ফাউ-েশন। সংগঠনটির সমন্বয়ক রাসেল আমীন স্বপন জানান, নীলফামারীর নূহা অটোরাইস মিলের আর্থিক সহযোগিতায় সেফ ফাউ-েশনের স্বেচ্ছাসেবকরা দরিদ্র এসব পরিবারের বাড়িতে ঈদ উপহার পৌঁছে দেন।

এছাড়াও দুপুরে ফেইসবুক ভিত্তক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘মানবতার ছোঁয়া’র উদ্যোগে জেলা শহরের বিভিন্ন স্থানে পাঁচশত দরিদ্র মানুষের মাঝে ঈদ সামগ্রি বিতরণ করা হয়। প্রত্যেক পরিবাররের সদস্যেদের মাঝে একটি করে পাঞ্জাবী, আতব চাল, সেমাই, চিনি বিতরণ করা হয় বলে জানান সংগঠনের প্রধান সমন্বয়কারী নোহেল রানা।

সড়ক দূর্ঘটনায় রিক্সা চালক নিহত

নীলফামারীর সৈয়দপুরে শহরে সড়ক দূর্ঘটনায় অজ্ঞাত এক রিক্সা চালক নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বঙ্গবন্ধু সড়কের বিদ্যুৎ অফিসের সামনে ওই দূর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, যাত্রীবিহীন রিক্সা নিয়ে ওই রিক্সাচালক শহর থেকে বাস টার্মিনালের দিকে যাচ্ছিল। এমন সময় পেছন থেকে একটি ট্যাংক লরী সজোরে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলে রিক্সাচালক মারা যায়।

সৈয়দপুর থানার অফিসার আবুল হাসনাত খান জানান, নিহত রিক্সাচালকের পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি। তবে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে লরী সনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে।

কিশোরগঞ্জের নিরাপদ সবজি গ্রামের কৃষকরা
প্রতিকুল আবহাওয়ায় চরম বিপাকে

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে উৎপাদিত হচ্ছে কৃষকদের নিজস্ব তত্বাবধানে নিরাপদ শাক সবজি। আর এটির নামকরণ করা হয়েছে নিরাপদ সবজি গ্রাম। সম্পুর্ণ জৈব প্রযুক্তিতে ওই গ্রামের কৃষকেরা উৎপাদন করেন ১৬ ধরণের নিরাপদ ফসল। কিন্তু করোনায় সচেতন ভোক্তা ক্ষেতে আসতে না পারায় সবজি গ্রাম ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়েছে। বিপাকে পড়ে কৃষকরা তাদের জৈব প্রযুক্তির ফসল বাজারে এনে পানির দরে বিক্রি করছেন।
সরেজমিনে জানা যায়, মেলাবর এলাকায় শুধুমাত্র জৈব সার ও জৈব বালাই নাশক দিয়েই ওই গ্রামের কৃষকেরা চাষাবাদ করেন। ভেষজ উদ্ভিদের লতা পাতা দিয়ে নিজেরাই তৈরী করেন বলাই নাশক ও জৈবসার। ভেষজ হরমোন ক্ষেতে প্রয়োগ করে উৎপাদন করেন ১৬ ধরণের নিরাপদ সবজি।

আশানুরুপ উৎপাদন, সচেতন ভোক্তার চাহিদায় তাদের মুখে হাঁসি ফুটেছিল। কিন্তু করোনায় লকডাউনের কারণে তাদের ফসল ক্রেতাশূন্য হওয়ায় ক্ষেতেই বিনষ্ট হচ্ছিল। বাধ্য হয়েই তাদের জৈব্য প্রযুক্তির নিরাপদ ফসল বাজারে এনে অর্ধেক দরে বিক্রি করছেন। ফলে নিরাপদ সবজি গ্রামের কৃষকেরা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন।

কৃষক প্রভাষ চন্দ্র, বিষ্ণু চন্দ্র ও আব্দুর রহিম জানান, করোনা ভাইরাসের আগে সচেতন ক্রেতারা ক্ষেতে গিয়ে প্রতি কেজি দু’এক টাকা বেশি দরে পছন্দের সবজি ক্রয় করত। এখন খুচরা ক্রেতা ও পাইকার না আসায় করলা, বেগুন, শশা, টমেটো, মিষ্টি কুমড়া, ডাটাশাক ও ঝিঙ্গা বাজারে নিয়ে গিয়ে করোনার আগের চেয়ে অর্ধেকের কম দামে বিক্রি করেছি।

কেননা, বাজারে নিরাপদ সবজির নির্দিষ্ট কোন দোকান না থাকায় জৈব প্রযুক্তিতে উৎপাদিত সবজি বেশি দরে নিচ্ছেন না। বাধ্য হয়েই ক্ষেতের সবজি বাজারে এনে কম দরে বিক্রি করায় লোকসান গুনতে হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান জানান, ওই গ্রামের ৩০জন কৃষককে প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা দেয়ায় তারা জৈব প্রযুক্তিতে নিরাপদ সবজি উৎপাদন করছেন। ভবিষ্যত প্রজন্মের সুস্বাস্থ্যের কথা ভেবে এখন অনেকে জৈব প্রযুক্তিতে ফসল করার জন্য উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। প্রত্যেক বাজারে নিরাপদ সবজি বিক্রির জন্য নির্দিষ্ট একটি দোকানের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে। করোনা দুর্যোগে নিরাপদ সবজি চাষিরা তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যর্যমূল্য না পাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছেন।

image_pdfimage_print