লকডাউনের আবহেই একটি স্বাস্থ্যসমীক্ষা সামনে এসেছিল। ভারতের ৮১টি শহরে সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গিয়েছে ৭৬ শতাংশ ভারতীয় ভিটামিন ডি-র অভাবজনিত রোগে ভোগেন।

শুধু তাই নয়, সমীক্ষায় আরও দেখা গিয়েছে, ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সিদের মধ্যেই এই খামতি বেশি।

জলন্ধরের গার্ডিয়ান হাসপাতালের (Guardian Hospital, Jalandhar) চিকিৎসক ড. সঞ্জীব গোয়েলের (Dr. Sanjiv Goel)তত্ত্বাবধানে এই সমীক্ষাটি হয়েছিল। সমীক্ষাটি প্রকাশিত হয়েছে International Journal of Research in Orthopaedics। সেখানে সঞ্জীব লেখেন, ভিটামিন ডি-র (Vitamin D)অভাবের বিষয়টি এখনও দেশের মানুষের মধ্যে তেমন মান্যতা পায়নি। ভিটামিন ডি-কে তিনি এক critical micronutrient বলে উল্লেখ করে বলেন, এটি পেশি ও হাড়ের গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এমনিতেও সামগ্রিক ভাবে স্বাস্থ্যের সুরক্ষাও নিশ্চিত করে ভিটামিন ডি। এ বিষয়ে যে দেশের মানুষের সচেতনতা জরুরি তা-ও তিনি জানান। ভিটামিন ডি-র অভাবজনিত রোগকে তিনি এক নীরব মহামারির সঙ্গে তুলনা করেন।

অ্যাবটের (Abbott) ডিরেক্টর শ্রীরূপা দাস (Dr. Srirupa Das) জানান, ভিটামিন ডি-র অভাবটা বয়স্কদের মধ্যেই দেখা যেত। তবে এই সমীক্ষা থেকে দেখা যাচ্ছে, এটা তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও হচ্ছে। তিনি এ বিষয়ে গণসচেতনতা প্রচারের পক্ষে মত দেন। তিনি এ-ও জানান, advanced Vitamin D Nanotechnology formulations ব্যবহার করে এই খামতি পুষিয়ে দেওয়ার একটা চেষ্টা করা যেতেই পারে।

আসলে সূর্যালোকই ভিটামিন ডি-র একমাত্র উৎস। কিন্তু ভারতীয়রা নানা সামাজিক সাংস্কৃতিক প্রতিবন্ধকতার জেরে এই ভিটামিন অর্জন করতে পারে না। খাবার এবং পোশাকের বিধিও এক্ষেত্রে সক্রিয়। এমনিতেও নগরায়ণ ও আধুনিক জীবনযাপন পদ্ধতি ভিটামিন ডি-র অভাবের বিষয়টিকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

এর মধ্যে আবার গোদের উপর বিষফোড়ার মতো লকডাউন দেখা দিয়েছে। এই সময়টা মানুষ এমনিই বাড়ি থেকে কার্যত বেরননি। মূলত ইন্ডোর হ্যাবিটের মধ্যে দিয়েই গিয়েছেন মানুষজন।

তবে দিনে ৩০-৪৫ মিনিট শরীরে রোদ লাগালে এক্ষেত্রে অনেকটাই উপকার হবে। শুধু তাই নয়, নিত্যদনের খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে কড লিভার তেল, স্যামন মাছ, ম্যাকারেল, সার্ডিন, টুনা, ডিম এবং মাশরুম।

 

 

 

 

জি নিউজ

প্রতিবেদনটি জনস্বার্থে প্রকাশ করা হলো

image_pdfimage_print