হাঁটু বা গাঁটের ব্যথায় কি ক্রমশ হাঁটা-চলার স্বাভাবিক গতি কমে আসছে? ক্রমশ নড়বড়ে হয়ে পড়ছেন? গাঁটের ব্যথাকে অবহেলা না করে শুরু থেকেই সতর্ক হওয়া জরুরি। কড়া কড়া ওষুধের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার আগে জেনে নিন ঘরোয়া পদ্ধতিতে গাঁটের ব্যথা সারানোর কয়েকটি সহজ উপায়…

১) নুন জলের সেঁক: ম্যাগনেসিয়াম সালফেট সমৃদ্ধ সৈন্ধব নুন যে কোনও ব্যথার উপশমে খুবই কার্যকরী! ছোট এক কাপ সৈন্ধব নুন জলের মধ্যে গুলে নিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন। এ বার সেটা ফুটিয়ে ব্যথার জায়গায় ৩০-৪০ মিনিট ধরে সেঁক দিন। এই ভাবে নিয়মিত সেঁক দিলে গাঁটের ব্যথায় দ্রুত উপকার পাওয়া যেতে পারে।

২) ঠান্ডা-গরম সেঁক: গরম জল ‘হট ওয়াটার ব্যাগ’-এ করে ব্যথার জায়গায় ৫ মিনিট সেঁক দিন। জায়গাটা গরম হয়ে উঠলে সেখানে বরফ ঘষে মালিশ করুন। এই পদ্ধতিতে মোটামুটি ৩০ মিনিট গরম-ঠান্ডা সেঁক দিন। দেখবেন, গাঁটের ব্যথা অনেকটাই কমে যাবে।

৩) মেথি: যে কোনও জ্বালা-যন্ত্রণা দ্রুত কমাতে মেথি খুবই কার্যকরী। গাঁটের ব্যথায় কষ্ট পেলে নিয়মিত সামান্য উষ্ণ জলে মেথি ভিজিয়ে খেয়ে দেখুন। সারা রাত এক গ্লাস জলে মেথি ভিজিয়ে রেখে সকালে খালি পেটে ওই মেথি ভেজানো জল খেলেও গাঁটের ব্যথায় দ্রুত উপকার পাওয়া যেতে পারে।

৪) হলুদ আর আদার মিশ্রণ: ২ কাপ জলের সঙ্গে কিছুটা হলুদ আর সম পরিমাণ আদা ফুটিয়ে নিন। গরমে ফুটে যখন মোটামুটি আধ-কাপের মতো হয়ে যাবে তখন সেটিকে আঁচ থেকে নামিয়ে হলুদ-আদার ওই মিশ্রণে ১ চামচ মধু মিশিয়ে নিন। দিনে অন্তত ২ বার এই দ্রবন খেতে পারলে পেইন কিলার ছাড়াই গাঁটের ব্যথা অনেকটাই কমে যাবে।

৫) লঙ্কা গুঁড়ো আর নারকেল তেলের মিশ্রণ: চিকিত্সকদের মতে, গাঁটের ব্যথা কমাতে ক্যাপসাইসিন খুবই কার্যকরী একটি উপাদান। লাল লঙ্কাতে প্রচুর পরিমাণে ক্যাপসাইসিন রয়েছে। আধা কাপ নারকেল তেলে ২ চামচ লঙ্কা গুঁড়ো মিশিয়ে ব্যথার জায়গায় অন্তত মিনিট কুড়ি মালিশ করুন। এর পর উষ্ণ জলে জায়গাটা ভাল করে পরিষ্কার করে ফেলুন। দিনে অন্তত ২-৩ বার এই পদ্ধতিতে মালিশ করলে গাঁটের ব্যথা অনেকটাই কমে যাবে।

৬) পিপারমিন্ট আর ইউক্যালিপটাস তেল: ব্যথা-বেদনা নিরাময়ের ক্ষেত্রে পিপারমিন্ট এবং ইউক্যালিপটাস তেল অত্যন্ত কার্যকরী! ৫-৬ ফোঁটা পিপারমিন্ট আর ইউক্যালিপটাস তেলের সঙ্গে নারকেল, ওলিভ বা আমন্ড তেল মিশিয়ে ব্যথার জায়গায় নিয়মিত মালিশ করলে গাঁটের ব্যথায় দ্রুত আরাম পাওয়া যায়।

 

 

 

 

জি নিউজ

প্রতিবেদনটি জনস্বার্থে প্রকাশ করা হলো

image_pdfimage_print