খ্যাতিমান সাহিত্যিক ও জাতীয় অধ্যাপক মুস্তাফা নূরউল ইসলাম আর নেই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। গত রাত সাড়ে ৯টার দিকে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে অ্যাপোলো হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাান তিনি। মরদেহ অ্যাপোলো হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। কাল বেলা ১১টায় সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মরদেহ নেয়া হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। পরে বাদ যোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদে নামাজে যানাজা অনুষ্ঠিত হবে। তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
‘আমার বাংলা’, ‘বাঙালির আত্মপরিচয়’, ‘আমাদের মাতৃভাষার চেতনা ও ভাষা আন্দোলন’ প্রবন্ধের লেখক খ্যাতিমান সাহিত্যিক ও জাতীয় অধ্যাপক মুস্তাফা নূরউল ইসলাম ইন্তেকাল করেছেন। কিছুদিন ধরে তিনি কিডনিজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন। বুধবার রাতে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে অ্যাপোলো হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৯১ বছর।
শুক্রবার বেলা ১১ টায় সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তাঁর মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হবে। বাদ যোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে নামাজের যানাজা।
মুস্তাফা নূরউল ইসলাম ১৯২৭ সালে বগুড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। পাঁচ বছর বয়সে কলকাতায় কবি কাজী নজরুল ইসলামের হাতে লেখাপড়ায় হাতেখড়ি। কলকাতার সুরেন্দ্রনাথ কলেজে গ্রাজুয়েশনের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ পাস করেন। পরে লন্ডন ইউনিভার্সিটির প্রাচ্যভাষা ও সংস্কৃতি  কেন্দ্র সোয়াস থেকে পিএইচডি ডিগ্রি নেন তিনি।
মুস্তাফা নূরউল ইসলামের কর্মজীবনের শুরু দৈনিক আজাদ পত্রিকায় প্রতিবেদক হিসেবে। ১৯৫১ সালে তিনি সহকারী সম্পাদক হিসেবে ২ বছর দৈনিক সংবাদে সাংবাদিকতা করেন। করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের যাত্রা শুরু হয়েছিল তার হাতে। স্বাধীনতার আগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা, ১৯৭২ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
বাহান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ- বাঙালির প্রায় প্রতিটি আন্দোলনে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ৩০টির বেশি প্রবন্ধ সংকলন ও গবেষণা গ্রন্থ রয়েছে মুস্তাফা নূরউল ইসলামের। বিটিভিতে ‘মুক্তধারা’ অনুষ্ঠানটি একাধারে ১৫ বছর উপস্থাপনা করেন তিনি। সাহিত্যে অবদান রাখায় ২০১০ সালে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হন তিনি।
দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে তার। মেয়ে আতিয়া ইয়াসমিন ও নন্দিতা ইয়াসমিন এবং ছোট ছেলে রাজন বিদেশে আছেন।

বৈশাখী অনলাইন

উক্ত প্রতিবেদনটি জনস্বার্থে প্রকাশ করা হলো

image_pdfimage_print