পৃথিবীতে একটি রাষ্ট্রকে ইসরাইল ভয় পায় ও আতঙ্ক বলে মনে করে-সেই দেশটি ‘ইরান’। পরমাণু সমঝোতা বিষয়ে সমস্ত বিশ্ব যখন একদিকে বিপরীতে ইরান ছিল একা। দেশটি তার দক্ষতা, যোগ্যতা ও কূটনৈতিক কৌশল দিয়ে পরমাণু বিষয়ে সমঝোতা বা চুক্তি করতে সামর্থ্য হয়েছে। রেডিও তেহরানকে দেয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে একথা বলেছেন বাংলাদেশের সিনিয়র সাংবাদিক, আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষক ও বাংলা ম্যাগাজিন সাপ্তাহিকে’র সম্পাদক গোলাম মোর্তজা।

তিনি বলেন, ইরানের সাথে পরমাণু সমঝোতা চুক্তি হওয়ার পর ইসরাইল ভীত হয়ে পড়েছিল। এরপর আমেরিকায় ক্ষমতার পট পরিবর্তনের সাথে সাথেই সে সুযোগটি কাজে লাগিয়ে ঐ চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে নিতে সক্ষম হয়।

তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে ইরানের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা নবায়নের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চেষ্টা করলেও তারা তা পারবে বলে আমি মনে করি না।

ইরান প্রযুক্তি, পরমাণু গবেষণা, মানবসম্পদ সবদিক থেকে অনেক এগিয়েছে। ইরানের সেই অগ্রগতিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল ঠেকাতে চায়। আর তারই অংশ হিসেবে অন্যান্য নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি অস্ত্র নিষেধাজ্ঞাটি নবায়ন করতে উঠেপড়ে লেগেছে।

সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো। এটি গ্রহণ ও উপস্থাপনা করেছেন গাজী আবদুর রশীদ

রেডিও তেহরান: জনাব গোলাম মোর্তজা, গোটা বিশ্ব যখন মহামারি করোনা পরিস্থিতে নাজেহাল তখন ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ানোর চেষ্টা করছে আমেরিকা। ২০১৫ সালে সই হওয়া পরমাণু সমঝোতার ২২৩১ নম্বর প্রস্তাব অনুযায়ী এ বছরের ১৮ অক্টোবর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার কথা আছে। সেখানে আমেরিকা আবার নতুনভাবে চেষ্টা চালাচ্ছে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ানোর। তো মার্কিন এই প্রচেষ্টাকে কি আপনি কিভাবে দেখছেন।

গোলাম মোর্তজা: দেখুন, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ তার যে অন্যান্য মিত্র শক্তি আছে বিশেষ করে ইসরাইলের মনোভাবের একটা প্রতিফলন আমরা দেখছি বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের মুখের কথায় এবং তাদের কর্মকাণ্ডে। ইসরাইলের ইচ্ছাকে বাস্তবায়ন করছে মার্কিন প্রশাসন।

পৃথিবীকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছিল সালে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে পরমাণু ইস্যুতে যে সমঝোতা বা চুক্তি হয়েছিল তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক যেটা ছিল সেটা হচ্ছে, ইরানের মতো একটি মুসলিম দেশ ক্রমান্বয়ে শক্তিশালী অবস্থানে উন্নীত হচ্ছে; এর অর্থ শুধু সামরিক শক্তির দিক দিয়ে নয়। প্রযুক্তি এবং মানব সম্পদ দুটো দিকেই তারা উন্নত হয়েছে। আর এই দেশটির সঙ্গে যুক্ত আছে ইসলামি শব্দটি। সেই ইরান খুব শক্তিশালী একটি রাষ্ট্র হিসেবে পৃথিবীর বুকে আত্মপ্রকাশ করেছিল ঐ সমঝোতা বা চুক্তির সময়। দেশটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় শক্তির সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনার পর পরমাণু বিষয়টি নিয়ে একটা সমঝোতায় পৌঁছতে সক্ষম হয়েছিল।

পরমাণু সমঝোতা বা চুক্তিটির বড় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- দীর্ঘ দিনের আলোচনা অবশেষে মূল চুক্তির সময় আমেরিকা এবং ইউরোপের সবচেয়ে শক্তিশালী, অভিজ্ঞ, বিশেষজ্ঞ রাজনীতিবিদরা অংশ নিয়েছিল। বিপরীতে ইরান একা তার দেশের রাজনীতিবিদ এবং দেশ পরিচালনাকারীদের নিয়ে মুখোমুখি হয়েছিল প্রতিপক্ষের। স্বাভাবিকভাবে এটাকে এভাবে বলা যায় যে, একদিকে পুরো বিশ্ব অন্যদিকে ইরান একা। বছরের পর বছর ধরে টেবিলে যে আলোচনা চলেছিল তাতে ইরান তার মানবসম্পদ উন্নয়নে কতটা এগিয়ে গেছে তার সক্ষমতা প্রমাণ করেছিল। আর ইরানের এই এগিয়ে যাওয়ার সময়টা খুব একটা সুখকর  ছিল না। দীর্ঘ দিন নানাভাবে নিষেধাজ্ঞার প্রতিকূলতার মধ্যে থেকেই তারা এগিয়েছে। এরও আগে তাদের সঙ্গে ইরাকের দীর্ঘ যুদ্ধে দেশটির অর্থনীতির ব্যপক ক্ষতি হয়। তারপরও ইরান মানবসম্পদ এবং প্রযুক্তিগত জায়গায় কতটা এগিয়ে গেছে তার  একটি প্রমাণ ঐ চুক্তি। আর এ সময় থেকেই ইসরাইল খুবই ভীত হয়ে পড়েছিল।

ঐ ঘটনার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার পট পরিবর্তন আসার সাথে সাথে বিষয়টি কাজে লাগায় ইসরাইল। সত্যিকার অর্থে ইসরাইল পৃথিবীতে একটি রাষ্ট্রকে ভয় করে বা আতঙ্ক মনে করে আর সেই রাষ্ট্রটি হচ্ছে ইরান।

ইসরাইলের স্বার্থ দেখা যেহেতু মূলত আমেরিকার দায়িত্ব। এর বাইরে কিছুটা প্রকাশ্যে এবং কিছুটা নেপথ্যে ইউরোপও মনে করে ইসরাইলের স্বার্থ দেখা তাদেরও দায়িত্ব। তবে তারা আমেরিকার মতো নগ্নভাবে না হলেও তারা মূলত ইউরোপের স্বার্থই দেখে; ইরান বা কোনো মুসলিম রাষ্ট্রের স্বার্থ তারা দেখে না।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখন পরমাণু ইস্যুতে সমঝোতা বা চুক্তি থেকে সরে গেল তখন ইউরোপীয়রা তার বিরোধীতা করলেও কার্যকরভাবে কোনো ব্যবস্থা নিল না। এরপরও ইরান তার নানারকম সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও দেশটির অগ্রগতিটা কিছুটা দৃশ্যমান কিছুটা অদৃশ্যমান। ইরানের সেই অগ্রগতিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল ঠেকাতে চায়। আর তারই অংশ হিসেবে অন্যান্য নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি অস্ত্র নিষেধাজ্ঞাটি নবায়ন করতে উঠেপড়ে লেগেছে। অথচ এই অস্ত্র নিষেধাজ্ঞাটি আন্তর্জাতিক রীতি অনুযায়ী এমনিতেই উঠে যাওয়ার কথা। কিন্তু তারা এটিকে পুনর্বহাল করতে চাইছে।

রেডিও তেহরান: তারা যে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞাকে পুনর্বহাল করতে চাইছে- এটাকে আপনি কিভাবে মূল্যায়ন করবেন?

গোলাম মোর্তজা: দেখুন, পৃথিবী চলে আইনের শাসনের ভিত্তিতে। তবে আইনের শাসন সব জায়গায় নেই। বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় আইনের শাসন লঙ্ঘিত হচ্ছে। আর এই আইনের দুটো বিষয় আছে। একটি দেশীয় ও অন্যটি আন্তর্জাতিক আইন। ইরানের বিরুদ্ধে সে সময় যে ব্যবস্থাটি নেয়া হয়েছিল সেটি আন্তর্জাতিক আইনকে সামনে রেখেই নেয়া হয়েছিল। যদিও ইরানের বিরুদ্ধে সেই ব্যবস্থা গ্রহণ নিয়ে বড় রকমের বিতর্ক আছে। বলা হয়েছিল একটি দেশের বিরুদ্ধে যে প্রক্রিয়াতে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে সেটি কোনোভাবেই সঠিক নয়। সেটি নীতি-আইনবর্হিভূত ও অন্যায়। তারপরও ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল। কিন্তু তারপর যখন একটি চুক্তি হলো এবং তা আন্তর্জাতিক আইন দ্বারা স্বীকৃত হলো। সেই চুক্তি লঙ্ঘন করে আবার সেটি নবায়ন করার যে চেষ্টা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র করছে সেটি পৃথিবীতে স্বীকৃত এবং প্রচলিত যে আন্তর্জাতিক আইন আছে তার সম্পূণ লঙ্ঘন।

এখানে প্রশ্ন হচ্ছে, আমি সারা পৃথিবীতে আইনের শাসনের কথা বলব এবং নিজের দেশে আইনের প্রয়োগ করব আর অন্যের বিষয় যখন আসবে তখন জোর-জবরদস্তিমূলক ব্যবস্থা নেব- এগুলো হচ্ছে একধরণের দ্বিচারিতা, স্ববিরোধীতা। আর এর পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের জনগণ ক্ষতির মুখে পড়বে। এতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেরও কোনো উপকার হবে না; ইউরোপেরও কোনো উপকার হবে না। সামগ্রিকভাবে পৃথিবীর উপর একধরনের চাপ বাড়বে। পৃথিবী তার নীতি-নৈতিকতা এবং  জাতিসংঘ তার নীতি-নৈতিকতার জায়গা থেকে সরে যাবে যদি সত্যি সত্যি এটি নবায়ন করা হয় বা পুনর্বহাল করা হয়।

রেডিও তেহরান: চীন এবং রাশিয়া মার্কিন প্রচেষ্টার বিরোধীতা করছে। আপনি কি মনে করেন আমেরিকা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অধীনে ইরানের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়াতে পারবে?

গোলাম মোর্তজা: দেখুন, আমেরিকা হচ্ছে এমন একটি শক্তি; সে যে কাজটি করতে চায় সেটি কোনো না কোনো প্রক্রিয়াতে সম্পন্ন করে বা করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করে অথবা সে বারবার বাইপাস তৈরি করে। ২০১২ সালের যে পৃথিবীর কথা বললেন সে সময়  রাশিয়া এবং চীনের যে অবস্থান ছিল গত কয়েক বছরে বদলে যাওয়া পৃথিবীতে বর্তমানে চীন এবং রাশিয়ার ভূমিকা আগের সেই জায়গাতে নেই। আমি বলব অন্তত দৃশ্যমানভাবে সেই জায়গাতে নেই। ফলে ইরানের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা নবায়ন করতে চাইলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে যেতে হবে। আর সেখানে বর্তমান সময়ে একদিকে আমেরিকা এবং ইউরোপের যে অবস্থান অন্যদিকে চীন এবং রাশিয়ার যে অবস্থান তার পরিপ্রেক্ষিতে এটা বিশ্বাস করার যথেস্ট যৌক্তিক কারণ আছে যে চীন এবং রাশিয়ার সমর্থন আমেরিকা পাবে না। সেক্ষেত্রে তারা নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাবটি পাস করাতে পারবে না বলেই ধারণা করছি।

পাশাপাশি একথাও বলে রাখছি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা নবায়নের বিষয়টি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাস করাতে না পারলেও নিজেরা এবং ইউরোপের শক্তিগুলোকে কাজে লাগিয়ে নানাভাবে তারা ইরানের উপর চাপ দেয়াটা অব্যাহত রাখবে এবং এর থেকে তারা নানারকমের বাইপাস রাস্তা খোঁজার চেষ্টা করবে। আর তার মাধ্যমে কিছুটা আইনি কিছুটা বেআইনিভাবে, কিছু নীতি মেনে কিছু এবং কিছু নীতি লঙ্ঘন করে হলেও ইরানের উপর নানাবিধ চাপ অব্যাহত রাখবে। বিশেষ করে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞাটা কার্যকর করার একটা চেষ্টা তারা করবে। তবে এখানে দেখার বিষয় হচ্ছে রাশিয়া এবং চীন শেষ পর্যন্ত মার্কিন নীতি বহির্ভূত বিরোধীতার জায়গাতে কতখানি শক্ত অবস্থানে থাকে।

বর্তমান পৃথিবীতে চীনও একধরণের চাপের মধ্যে আছে। ভারতের সঙ্গে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার সম্পর্কে একটা উত্তেজনা চলছে। চীনের বাণিজ্য নানাবিধ জটিলতার মধ্যে পড়েছে। এখন আমেরিকা- ইরান ইস্যুতে বিশেষ কোনো সুবিধা দিয়ে নিজের পক্ষে নিতে চায় কি না সেটাও দেখার বিষয়। অন্যদিকে রাশিয়ার অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো নয়। সেক্ষেত্রে ইউরোপের মাধ্যমে রাশিয়াকে নিজেদের মধ্যে টানতে চায়  কি না- সে বিষয়গুলো দেখার আছে যে সামনের পৃথিবীটা কেমন হবে!

তবে এখনই ইরানের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা ইস্যুতে চীন এবং রাশিয়ার সমর্থন পাবে না আমেরিকা। এমনটিই ধারণা করা হচ্ছে। একথাটাও ঠিক রাশিয়া এবং চীনের সমর্থন পাওয়ার জন্য সামনে থেকে আমেরিকা এবং নেপথ্যে ইসরাইল সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে ভেটো প্রয়োগ থেকে রাশিয়া ও চীনকে বিরত রাখতে।  এটির জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। আবারও বলছি দৃশ্যমানভাবে আমার বক্তব্য হচ্ছে চীন এবং রাশিয়ার সমর্থন তারা পাবে না। নিরাপত্তা পরিষদের মধ্য দিয়ে পাস করিয়ে এনে তা বাস্তবায়ন করা  আমেরিকার জন্য অত্যন্ত কঠিন হবে।

রেডিও তেহরান: এইযে পরমাণু সমঝোতা ইস্যু এবং অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা মেয়াদ বাড়ানোর প্রসঙ্গ। অর্থাৎ ইরানকে কেন্দ্র করে বিশ্ব এখন কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত। যখন ২০১২ সালে ইরানের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছিল তখন চীন এবং রাশিয়া আমেরিকার পক্ষেই ছিল। যেকথাটিও আপনিও বললেন। তো পরবর্তী পরিস্থিতি এবং বর্তমানে তারা ইরানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানের এই অবস্থানকে আপনি কিভাবে দেখছেন?

গোলাম মোর্তজা: দেখুন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানের অবস্থান নানাবিধ কারণে অত্যন্ত শক্তিশালী। ইরানকে কেন্দ্র করে- ইরাক-সিরিয়াসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে দৃশ্যমান এবং অদৃশ্যমানভাবে ইরানের অত্যন্ত শক্তিশালী একটি সামরিক উপস্থিতি আছে। আর ইরানের সেই দৃশ্যমান সামরিক উপস্থিতির বিষয়টি সারা পৃথিবীর বিশ্লেষকরা দেখছেন এবং মূল্যায়ন করছেন। আমেরিকা এবং ইসরাইল নানাবিধ প্রক্রিয়ায় ইরানের স্বার্থ খর্ব করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু ইরানের কৌশল এবং দেশটির নীতি নির্ধারকদের দক্ষতার কারণে সে কাজটি তারা করতে পারছেন না। আর সে কারণে ঐ অঞ্চলের জন্য ইরান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তাছাড়া এই অঞ্চলে ইরান এবং সিরিয়া ছাড়া রাশিয়ার আর কোনো বড় মিত্র নেই। এই অঞ্চলে রাশিয়ার যদি তার নিজের অধিকার অক্ষুন্ন রাখতে হয়- সেক্ষেত্রে বলা চলে সিরিয়া ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি দেশ তাকে দিয়ে সে কাজটি হবে না। ফলে ইরানের সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক রাখতে হবে। আর সে কারণে ইরান-রাশিয়ার সমর্থন পেয়ে যাবে। এটিই ধারণা করা হয়ে থাকে। রাশিয়া তার নিজের স্বার্থেই ইরানের পক্ষে অবস্থান নেবে। এ জায়গাটিতেও ইরান খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

আর চীনের বিষয়টি হচ্ছে- এই দেশটি পৃথিবীতে সবকিছুকেই বিবেচনা করে বাণিজ্যকে সামনে রেখে। সুতরাং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের সামরিক দ্বন্দ্বের চেয়ে বড় দ্বন্দ্ব বাণিজ্য বিষয়ে। ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি চীনকে তার অবস্থান থেকে কোনো সময় পরিবর্তনের চেষ্টা করে সেটি বাণিজ্যিক স্বার্থ দিয়ে। আর সেই কাজটি করানো তুলনামূলকভাবে  সহজ হবে। অন্যদিকে রাশিয়ার ক্ষেত্রে সেটি তুলনামূলকভাবে কঠিন। চীন কতোটা শক্তিশালীভাবে ইরানের পক্ষে অবস্থান নেবে সেটা পরিষ্কার নয়। তবে রাশিয়ার শাক্তিশালী অবস্থান থাকবে ইরানের পক্ষে। আর সে কারণেই চীনও ইরানের দিক থেকে তার নীতি পরিবর্তন করাতে পারবে না। আর এ জায়গাটিতেও বর্তমান এবং ভবিষ্যতে ইরানের একটা শক্তিশালী অবস্থানেরই ইঙ্গিত দেয় এখন পর্যন্ত।

এখানে আরেকটি বিষয় আমাদের আলোচনায় সব সময় আসে না। সেটি হচ্ছে ইরানের পরমাণু শক্তি এবং অস্ত্র বা সামরিক শক্তির দিকটি। আমেরিকাসহ পশ্চিমা বিশ্ব প্রায়ই আলোচনায় আনে এবং তারা দাবি করে যে, ইরান পরমাণু অস্ত্র বানাবে। সামরিক দিক দিয়ে শক্তিশালী হয়ে যাবে.. ইত্যাদি ইত্যাদি। এ বিষয়টিকে তারা সামনে আনে।

রেডিও তেহরান: জনাব গোলাম মোর্তজা- ইরানের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ানোর আমেরিকার চেষ্টা সম্পর্কে দীর্ঘক্ষণ রেডিও তেহরানকে সময় দেয়ার জন্য আপনাকে আবারও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

গোলাম মোর্তজা: আপনাকে ধন্যবাদ। রেডিও তেহরানের শ্রোতা ও দর্শক যারা এই অনুষ্ঠান শুনলেন এবং দেখলেন তাঁদের সবাইকে ধন্যবাদ।

 

 

 

 

 

 

পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ

জনস্বার্থে প্রকাশ করা হলো

image_pdfimage_print